তৃণমূলের ভাঙনের জল্পনার মাঝে মমতার হুঙ্কার -‘বিজেপিকে হটিয়েই দম নেব!’

রাজনীতি রাজ্য

বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- রাজ্যে পাল বদলের পর এই প্রথম রাজপথে নামলেন তৃণমূল সুপ্রিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রানী রাসমণি রোড অ্যাভিনিউর অনুমতি বাতিল হওয়ার পর মঙ্গলবার পুলিশের কড়া শর্তে ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে মাত্র দু ঘন্টার জন্য ধারনায় বসে তৃণমূল শিবির। আর এই ধরনা মঞ্চ থেকে বিজেপির উদ্দেশ্যে তীব্র হুংকার দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিকে প্রখর রৌদ উপেক্ষা করে দলীয়কর্মী সমর্থকদের ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে  মধ্য দিয়ে পুরনো চেনা ছন্দে বক্তব্য রাখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ  উগরে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাকে আটকাতে পারবেন না, বাংলায় ১৭৭ টি আসনে ভোট লুট হয়েছে। আমি সংবিধান রক্ষা করব এবং বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব’। দিল্লি থেকে কলকাঠি নেড়ে তৃণমূলকে ভেঙে ফেলার চক্রান্ত হচ্ছে বলেও এদিন তিনি দাবি করেন। সেই সাথে তিনি ঘোষণা করেন, “ জিয়েঙ্গে তো বিজেপি কো হটাকে যায়েঙ্গে”।
এদিনের ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলের  ধর্নামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, মদন মিত্র ,কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ডেরেকওব্রায়েন । এদিকে জানা গিয়েছে, এদিনের ধর্নায় যোগ দেওয়ার আগে ভাঙ্গন রুখতে কালীঘাটে জরুরি বৈঠক করেন তৃণমূল সুপ্রিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

  গত ৬ই মে তৃণমূল সুপ্রিমের বৈঠকে ৭১ জন বিধায়ক এলেও গত ৩১ শে মে সেই বৈঠকে হাজিরার সংখ্যা দাঁড়ায় ২০ ।দলীয় সূত্রের খবর, দলের অন্তত ৫০ জন বিধায়ক বর্তমানে বিক্ষুদ্ধ। সেই সাথে আরো অস্বস্তি বাড়িয়েছে  তৃণমূল দলের শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দল থেকে বের হওয়ার পরই সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কে কার্যত নিশানা করেই, তিনি দাবি করেছেন- ‘তৃণমূল পুরোপুরি হাইজ্যাক করে নিয়েছে একটা কর্পোরেট সংস্থা। এখানে পার্টি মানে তো আইপ্যাক’।  

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন,একদিকে দলের অন্দরে বিক্ষুদ্ধদের প্রবল চাপ,অন্য দিকে দলে আভ্যন্তরীন কোন্দল।এর মাঝে নিচুতলার নেতা দলীয় কর্মী সমর্থকদের কিভাবে চাঙ্গা রেখে মমতা বন্দ্যোপাধায় দলের রাস নিজের হাতে ধরে রাখতে পারেন সেটাই এখন দেখার।

ADVT

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *