মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই ফলতাকাণ্ডে গ্রেপ্তার জাহাঙ্গীরের স্ত্রী,আজই আদালতে পেশ

রাজ্য

বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- পুলিশ লকআপ থেকে স্বামীকে ছিনিয়ে  আনতে ফলতা থানা ঘেরাও, পরে পুলিশ ওকেন্দ্রীয় বাহিনীর উপরে হামলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খানের স্ত্রীর বিরুদ্ধে। আর এর পরের দিন ফলতায় এক অনুষ্ঠান মঞ্চে দাঁড়িয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, পুলিশ ওকেন্দ্রীয় বাহিনী আর থানা আক্রমণের ঘটনায় জড়িতদের কাউকে যে ছাড়া হবে না তার নির্দেশ দেওয়ার পরই গ্রেপ্তার  তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খানের স্ত্রী রেজিনা বিবি।
তোলাবাজি সহ একাধিক গুরুতর অপরাধের অভিযোগে তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খান কে আগেই গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এই গ্রেপ্তারের পরই জাহাঙ্গীর খানকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে হাফপ্যান্ট পরিয়ে কোমরে দড়ি বেঁধে ফলতার রাস্তায় রাস্তায় ঘোরানো হয়। পাশাপাশি কান ধরে উঠবস খাওয়ানোর ভিডিও সংবাদ মাধ্যমের প্রচার হতেই ব্যাপক চর্চা শুরু হয়ে যায় বিভিন্ন মহলে। এরপরই জাহাঙ্গীর খানের গ্রেফতারের প্রতিবাদ। এমনকি থানা থেকে স্বামীকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসার অভিযোগ উঠেছিল। পুলিশের দাবি আর এই কর্মসূচিসুচির  মূল উদ্যোক্তা ছিলেন জাহাঙ্গীরের স্ত্রী রেজিনা বিবি। পাশাপাশি তদন্তকারীদের দাবি, প্রতিবাদ মিছিল কেবল  লোক দেখানো ছিল ।রোজিনা বিবির মূল উদ্দেশ্য ছিল তাঁর স্বামী জাহাঙ্গীর খানকে থানা লকআপ থেকে জোর করে বের করে আনা। অভিজ্ঞ তদন্তকারীরা আরো জানতে পেরেছেন, গত কয়েকদিন আগে রোজিনা বিবির নেতৃত্বে মিটিং ও হয়। এরপরে ঘটনার দিন মহিলা  পুরুষ ও শিশুকে সামনে রেখে তাদেরকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে  ফলতা থানা ঘেরাও করা হয় । ঘটনার দিনে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল যে  পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপরে হামলার চেষ্টা চলে। ইতিমধ্যে ঘটনায় প্রায় ২৫ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারী কে গ্রেফতার করেছে।
প্রসঙ্গত গত বুধবার১৭ই জুন ২০২৬  ফলতার জনকল্যাণ শিবিরে এসে  মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর হামলার ঘটনার খুব ক্ষোভপ্রকাশ করেন। সেই সাথে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছিলেন, ‘আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোন সুযোগ নেই এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ,ফলতার সরকারি মঞ্চ থেকে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার সুপারকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘ ভিডিও ফুটেছে যাদের দেখা গিয়েছে তাদের  কাউকেই ছাড়া না হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ সংক্রান্ত ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, এমন শিক্ষা দিতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কেউ পুলিশ, সরকারি কর্মচারী বা আধা সাময়িক বাহিনীর উপরে হামলা চালানোর সাহস না দেখায়’।

 মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পরই ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা জুড়ে শুরু হয় চিরুনি তল্লাশি। ভিডিওগ্রাফি ধরে ধরে একের পর এক গ্রেপ্তারের পর শেষমেশ মূল অভিযুক্ত রেজিনা বিবিকে আজ শনিবার সকালেই  বিষ্ণুপুর থানা এলাকার জুলফিয়া থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রোজিনা বিবি গ্রেপ্তারের পর ফলতা এলাকাজুড়ে রাজনৈতিক জোড় চর্চা শুরু হয়ে গেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ তাঁকে আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে।  

ADVT

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *