রাজ্য পুলিশের লাইভ ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী , সমস্যা  জানাতে চালু টোল ফ্রি নম্বর

রাজ্য

বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- রাজ্যের ট্রাফিক ব্যবস্থায় উন্নত আরও কড়া নজরদারির  জন্য  রাজ্য সরকার সল্টলেকের আরক্ষা ভবনের ট্রাফিক হেড কোয়াটারে তৈরি করা হয়েছে রাজ্যপুলিশের ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম। রাজ্যের মুখ্য সচিবের বিশেষ উদ্যোগে এবং আইজি ট্রাফিক ত্রিপুরারী সাহেবের নেতৃত্বে তৈরি এই কন্ট্রোল রুমের শুক্রবার উদ্বোধন করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

কন্ট্রোল রুম উদ্বোধনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সরকারি পরিষেবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে লাইভ মনিটরিং এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তার আগেই অভিজ্ঞতা হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ট্রাফিক ব্যবস্থার জন্য একটি লাইভ কন্ট্রোল রুম তৈরির বিষয়ে মুখ্য সচিব ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছে তিনি প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

 শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘একটা লাইভ কন্ট্রোল রুমের করার কথা বলেছিলাম যেখানে পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও রাজ্য সড়ক যুক্ত থাকবে। সিটি ট্রাফিক ও দেখা যাবে। এখানে এসে সেটাই ইনঅগারেট  করলাম। এই কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার যানজট পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করার যাবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। ডানকুনি, ফারাক্কা কালিয়াচক, ডালখোলা, ইসলামপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘক্ষণ ধরে কেন যানজট হচ্ছে। তার কারণও নজরে থাকা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন ,এখানে কোন হিডেন এজেন্ডা নিয়ে ট্রাফিক জ্যাম হচ্ছে না কি উদ্দেশ্য রয়েছে। মধ্যরাত পর্যন্ত কেন চলে ট্রাফিক জ্যাম। আমি অনেক রাস্তা ঘুরি, আপনারা জানেন। আমার কৌতুহল ছিল। এখন এখানে বসে সেটা দেখতে পাওয়া যাবে। সাধারণ মানুষ যাতে ট্রাফিক সংক্রান্ত সমস্যা সরাসরি প্রশাসনকে জানাতে পারেন। তার জন্য টোল ফ্রি নম্বর চালু কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। মোবাইল পাশাপাশি মোবাইল নাম্বার লিঙ্ক এবং হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারও চালু করা হবে বলে জানান তিনি। ট্রাফিক সংক্রান্ত অভিযোগ বা সমস্যার কথা সাধারণ মানুষ যাতে প্রশাসনকে জানাতে পারেন সেই উদ্দেশ্যে টোল ফ্রি নম্বর জানানো হয়েছে তা হল ১৮০০৩৪৫ ৮৯২২  ।


সেই সাথে তিনি জানান, ট্রাফিক পুলিশ কর্মীদের নিরাপত্তা, ট্রাফিক কিয়স্কের পরিস্থিতি এবং আর অকার্যকর থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা গুলিকে ফের কার্যকর করার বিষয়ক গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। জেলাস্তরে জেলাশাসকদের সঙ্গে এবং রেলওয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে বৈঠক করার কথাও বলেন তিনি। সেই সাথে তিনি জানান, শহর -রাজ্য লেভেলের জাতীয় সড়ক ,রেল, পুলিশ, সমস্ত ডিপার্টমেন্টকে নিয়ে স্টেট লেভেলের একটা সুন্দর উদ্যোগ গ্রহন করব।
মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারী এদিন জানান, তিনি পালসিট, ডানকুনি, ফারাক্কা, ধুলাগড় সহ বিভিন্ন চেকপোস্ট নিজে ঘুরে দেখেছেন। বেশিরভাগ জায়গায় পরিস্থিতি মোটামুটি ঠিক থাকলেও কিছু ট্রাফিক এলাকায় আরও কড়া নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি জানান। সেই জায়গাগুলিতে ইতিমধ্যে অ্যাকশন পয়েন্ট এর মধ্যে আনা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি পাহাড়ের সমস্যা নিয়েও বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, কালিম্পং ও দার্জিলিং শহরের ট্রাফিক পরিস্থিতি ও পরিদর্শন করেছেন তিনি। তাঁর দাবি পাহাড়ের মূল রাস্তার প্রায় সাত শতাংশ জায়গায় পার্কিংয়ের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে ,পাহাড়ে জায়গায় সমস্যা থাকলেও বিকল্প পার্কিংয়ের জায়গা খোঁজার জন্য জেলা শাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। পাহাড়ের উন্নয়ন ও পুনর্গঠন নিয়েও রাজ্যের বরাদ্দের প্রসঙ্গ উঠে আসে। সেই সাথে মুখ্যমন্ত্রী জানান আগে সরকার ৬ কোটি টাকার কাজ করেছিল। বর্তমান সরকার ৪৬৫টি প্রকল্পের ২৪৯  কোটি টাকা দিয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিল থেকে সাম্প্রতিক প্রকাশিত তথ্যেও ৪৬৫ টি প্রকল্পের জন্য প্রায় ২৪৯. ৮৬ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও স্টেট বাজেট ফান্ড থেকে জিটিএকে ৬৩ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে ।সেই সঙ্গে পাহাড়ে পার্কিংয়ের জন্য বিকল্প জায়গা খুঁজে দেখার নির্দেশ ও দেওয়া হয়েছে বলেও এদিন জানান মুখ্যমন্ত্রী।

ADVT

ADVT

ADVT

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *