
নিতাই মালাকার ,বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- নবান্নে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্যাবিনেট বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ঘোষণা করলেন। প্রশাসনিক সংস্কার, সীমান্ত সুরক্ষা, কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং কর্মসংস্থানকে সামনে রেখেই নতুন সরকারের রূপরেখা তুলে ধরা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, পশ্চিমবঙ্গে “সুশাসন, সুরক্ষা এবং ডাবল ইঞ্জিন সরকারের” নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, এই সরকার ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়, নীতিনিষ্ঠ প্রশাসনে বিশ্বাসী।
ক্যাবিনেট বৈঠকে দীর্ঘদিন পর “ভয়মুক্ত, রক্তপাতহীন ও অবাধ নির্বাচন” সম্পন্ন হওয়ায় রাজ্যের ভোটার, প্রশাসন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সকলকে ধন্যবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে বিজেপির ৩২১ জন নিহত কর্মীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সীমান্ত নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিএসএফ-এর প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্য সচিবকে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সেই কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা, পিএম শ্রী, বিশ্বকর্মা, উজ্জ্বলা যোজনা, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প দ্রুত চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
যুব সমাজের জন্য বড় স্বস্তির খবর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকারি চাকরির আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫ বছর বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আইএএস আধিকারিকদের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) অনুযায়ী রাজ্যকে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এছাড়া জনগণনা সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পুরনো নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করার কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি স্পষ্ট করে জানান, চালু থাকা সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি বন্ধ হবে না, তবে স্বচ্ছতার সঙ্গে চলবে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বা অযোগ্য কেউ আর সরকারি সুবিধা পাবেন না ।

ADVT





