
বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- জলে কুমির ডাঙ্গায় বাঘ। প্রতিমুহূর্তে বিপদ ওৎপেতে আছে। তবুও রুটি রুজির টানে সুন্দরবনের জঙ্গলে মাছ কাঁকড়া ধরতে যেতেই হবে। প্রতিদিনের মতো এদিন( মঙ্গলবার) স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সুন্দরবনের পাথরপ্রতিমার বাসিন্দার সুভাষ নায়েক কলস দ্বীপের রিজিয়ারা জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিল। স্ত্রীকে নৌকায় বসিয়ে রেখে জঙ্গল লাগোয়া খাঁড়ির তটে সঙ্গীদের সঙ্গে নিয়ে সুভাষ যখন কাঁকড়া ধরছিল, সে সময়ে জঙ্গলের ভিতর থেকে চুপিসারে বেরিয়ে আসে রয়েল বেঙ্গল টাইগার। মুহূর্তের মধ্যে একলা পেয়ে নৌকায় থাকা স্ত্রীর ঘাড়ের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শব্দ পেয়ে নৌকার দিকে তাকাতেই ওই দৃশ্য দেখে কিছুক্ষণের জন্য হকচকিয়ে যায় সুবাস ।পরে নিজেকে সামলে নিয়ে তারস্বরে চিৎকার শুরু করে নৌকার দিকে ছুটে আসে। তার আওয়াজ পেয়ে সঙ্গীরাও আসে ।এরপর বাঘের সঙ্গে শুরু হয় তীব্র লড়াই।
বহুক্ষণ ধরে চলে এই লড়াই। নৌকায় থাকা লগি ,লাঠি দিয়েই বারে বারে বাঘের উপর আঘাতের পর আঘাত করতে থাকে সুভাষ ও তার সঙ্গীরা। তবে একটা সময় রণেভঙ্গ দেয় রয়েল বেঙ্গল টাইগার। শিকার ছেড়ে তীব্র গর্জন করতে করতে কলস দ্বীপের গভীর জঙ্গলে ঢাকা দেয়।যদিও এই ঘটনায় সুভাষ বাবুর স্ত্রী প্রাণে বাঁচলেও গুরুতর আহত হন। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়। অত্যন্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পাথরপ্রতিমা মাধব নগর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় ।পরে তাকে কাকদ্বীপ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসা চলছে। এ বিষয়ে সুভাষ নায়েক সংবাদ মাধ্যম কে জানান, “কাঁকড়া ধরতে কলস দ্বীপের জঙ্গলের রিজিয়ার এলাকায় গিয়েছিলাম ।সে সময় জঙ্গল থেকে একটি বাঘ বেরিয়ে এসে স্ত্রীকে আক্রমণ করে। এই দৃশ্য দেখে আমি প্রথমে আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। এরপর চিৎকার করে সঙ্গীদেরকে ডাক দিই। তারাদ্রুত আসে। বাঘের সঙ্গে বহুক্ষণ লড়াই চলে আমাদের।স্ত্রীকে গুরুতর আহত অবস্থায় বাঘের মুখ থেকে উদ্ধার করি। বর্তমানে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। ইতিমধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে বনদপ্তরের আধিকারিকরা খোঁজখবর শুরু করেছেন বলে বনদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT

খবর এবং বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন:- ৯১৫৩০৪৩৩৮০
