
তোতন দাস,বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- উস্তিতে রূপান্তরকামী খুনের ঘটনায় বড়সর সাফল্য পেল ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশের অধীনে উস্তি থানা। খুনের ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে অভিযুক্তকে দিল্লির মানব্যনগর থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করল উস্তি থানার পুলিশ। ধৃতের নাম কামাল উদ্দিন হালদার। ধৃতকে ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে আসা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ২৯শে অক্টোবর বুধবার সকালে দক্ষিণ ২৪পরগণার উস্তি থানার কালিকাপোতা গ্রাম পঞ্চায়েতের ত্যালানি গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা সকালবেলা রাস্তার ধারে জলাভূমিতে একটি দেহ পড়ে থাকতে দেখে সঙ্গে সঙ্গে উস্তি থানায় খবর দেয় । ঘটনার কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে যায় উস্তি থানার পুলিশ । নলিকাটা রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছিল ওই দেহটি একজন রূপান্তরকামীর। নাম সোনু হালদার (২৫) ওরফে সোনালী। বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার মন্দিরবাজারের সেকেন্দারপুর এলাকার ধান্যঘাটায়। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়।,সেই সঙ্গে পুলিশ দ্রুত খুনের মামলা রজু করে তদন্ত শুরু করে । প্রথমে মৃতের এলাকার বাসিন্দা এবং পরিচিতদের সঙ্গে কথা বার্তা বলে খুনের ঘটনার রহস্যভেদ করতে চেষ্টা চালায় অভিজ্ঞ তদন্তকারীরা।এই ঘটনার তদন্তে উস্তি থানার ওসি ,সিআই মগরাহাট, ডায়মণ্ডহারবার এসডিপিও’র নেতৃত্বে গঠিত হয় একটি দল।এরপর তদন্তকারীরা সোনুর সঙ্গে ঘুরতো কামালউদ্দিন তাঁর দিকে প্রথমিক সন্দেহের তীর ছিল ।ওই খুনের দিনে যে অটো ব্যবহার করা হয়েছিল তার সন্দেহজনক গতিবিধি ট্র্যাগ করতেই সিসিটিভিতে উঠে আসে অন্য দিনের তুলনায় একটু আলাদা,ওই অটোটা ৮-১০মিনিট থেমে গিয়েছিল।প্রতিদিনের মত ওই অটোর গতি ঠিকঠাক মিল ছিলনা তাদন্তকারীরা।।আর তাতেই তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারনার সঙ্গে মিলে যেতেই সন্দেহ আরও গাঢ় হয়।খোঁজ শুরু হয় অভিযুক্তের।যদিও তাঁকে গ্রেপ্তারের আগেই গাঢাকা দিয়ে ছিল অভিযুক্ত।তবে অভিজ্ঞতদন্তকারীরা গোপনসূত্রে অভিযুক্ত কামাল উদ্দিন হালদারের প্রথমে রাজস্থান পরে দিল্লির ডেরার হদিস পায় । এবিষয় ডায়মণ্ডহারবার পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জোনাল) মিতুন কুমার দে জানান,”অভিযুক্ত ব্যক্তি কুখ্যাত অপরাধী।পুলিশের খাতায় তার নামে অস্ত্র আইনের মামলা রয়েছে।পাশাপাশি নিজের স্ত্রীকে দেহ ব্যবসায় নামাতে বাধ্য করেছিল সে।তাঁর সঙ্গে সোনুর শারীরিক সম্পর্ক ছিল।সেই সম্পের্কের সুযোগে বেশ কয়েকটি ধাপে কিছু টাকা নেয় কামালউদ্দিন ।সেই টাকা ফেরত চাইতেই দুজনের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়।খুনের পর পালিয়ে বেড়াচ্ছিল কামালউদ্দিন।তাকে ট্র্যাক করে প্রথমে রাজস্থানের আজমেঢ় শরিফে পাওয়া যায়।কিন্তু সেখান থেকে দিল্লিতে চলে আসে সে।পরে পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে টানজিট রিমান্ডে এখান নিয়ে আসা হয়।বর্তমানে আদালত থেকে ওকে পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে”।

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT

ADVT

খবর এবং বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন:- ৯১৫৩০৪৩৩৮০
