
বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে রবিবার কোলকাতার রেড রোড থেকে দেশবাসীকে যোগের বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এ বছর আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠান আয়োজিত হয় কোলকাতায়।এদিন প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে যোগ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আরএন রবি।এছাড়াও কেন্দ্র ও রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সকাল হতেই কয়েক হাজার মানুষের সঙ্গে যোগ অভ্যাসে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। একাধিক যোগাসনে অনুশীলন করতেও দেখা যায় তাঁকে। পরে অনুষ্ঠানস্থল ঘুরে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।শুধরেও দিলেন কারও কারও যোগ-ভঙ্গি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১শে জুন পৃথিবীর দীর্ঘতম দিন। যোগের জন্য এই দিনটি বিশ্বের বৃহত্তম গণ- উদযাপনের দিনে পরিণত হয়েছে ।তাঁর কথায় যোগ শুধু শরীর চর্চা নয়, মানুষের আত্মিক শক্তি, চেতনার প্রকাশ ।বয়স, ভাষা, দেশ বা সংস্কৃতির ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে একসুত্রে বাধার ক্ষমতা রয়েছে যোগের ।
এবছর যোগ দিবসের প্রতিপাদ্য ‘যোগ ফর হেলদি এজিং’ বা সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ ।শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি মানসিক সুস্থতা, আবেগগত স্মৃতি এবং সক্রিয় জীবন যাপনের যোগের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে এই ভাবনায়। পাশাপাশি তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে আজ যোগ বিশ্বের বৃহত্তম সামাজিক উদযাপনে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন দেশ ও সাংস্কৃতির মানুষকে এক মঞ্চে এনে দিয়েছে যোগ ।
প্রধানমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘ আমি এমন এক ভূমিতে এসেছি, যেখানে স্বামী বিবেকানন্দ, শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস এবং শ্রী অরবিন্দের মতো মহাপুরুষরা মানবতার পথ দেখিয়েছেন। তাদের চিন্তাধারা আজও কোটি কোটি মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। তিনি উল্লেখ করেন স্বামী বিবেকানন্দ শুধু ভারতের নয় বিশ্বের কাছে ভারতীয় দর্শন ও যোগের শক্তিকে তুলে ধরেছেন’। ১৮৯৩ সালে শিকাগোর ধর্ম মহাসভায় তাঁর ঐতিহাসিক বক্তৃতার প্রসঙ্গ টেন এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ বিবেকানন্দ মানুষের মধ্যে বিভাজন নয়, ঐক্যের বার্তা দিয়েছিলেন ।সেই একই দর্শনের প্রতিফলন দেখা যায় যোগের মধ্যেও’। এদিন তিনি আরো বলেন, ‘স্বামী বিবেকানন্দ বিশ্বাস করতেন যে মানুষের শরীর মন ও আত্মার সমন্বিত বিকাশই প্রকৃত উন্নতির পথ। যোগ সেই পথকে সুগম করে’। তাঁর মতে আজকের অস্থির ও সংঘাতপূর্ণ বিশ্বে বিবেকানন্দের ভাবনা এবং যোগের দর্শন আরো বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।






