
বাংলার চাণক্য নিউজ ডেস্ক:- বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ এর আগে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফন্ট( আই এস এফ) এ যোগ দিয়েছিলেন ভাঙড়ের প্রাক্তন তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলাম। আর কয়েক মাসের মধ্যেই সেই সম্পর্কের ইতি। সামাজিক মাধ্যমে একাধিক পোস্ট করে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে পদত্যাগের কথা জানিয়ে দিলেন আরাবুল ইসলাম। তাঁর অভিযোগ ‘আইএসএফএর স্বৈরাচারী ও একনায়ক তন্ত্রের কারণে ভাঙড়ের সাধারণ মানুষের উপরে অত্যাচার অনাচার নেমে এসেছে’।
সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে আরাবুল লেখেন, ‘,আইএসএফ এরর স্বৈরাচারী ও একনায়কতন্ত্রকে আমি ধিক্কার জানাই’। অন্য একটি পোস্টে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি ‘আই এস এফ এর লুম্পেন বাহিনীর হাতে ভাঙ্গড় জুড়ে যে ধরনের অত্যাচার ও অনাচার চলছে। তার প্রতিবাদেই তিনি দল ছাড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছেন’। যদিও তাঁর এই অভিযোগের পাল্টা আইএসএফের তরফে সংবাদমাধ্যমকে বিধায়ক নওশাদ সিদ্দীকী জানান, “দল ছেড়ে বেরিয়ে গেলেও আরাবুলের বিরুদ্ধে কথা বলতে তিনি পিছপা হবেন না” ।নওশাদের কথায় ,তিনি দল ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন বলেই তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলব না,তা নয় ।তবে আমরা গ্রামের দিকে কিছু প্রানীকে মুখে জাল দিয়ে রাখি,যাতে তারা নোংরা কিছুতে মুখ না দেয় ।কিন্তু তা সত্বেও সেই সব প্রানী মাঝে মধ্যেই নোংরা জঞ্জালে মুখ দেয়’। আরাবুলকে অতীতে দলে নেওয়া প্রসঙ্গ টেনে নওশাদ বলেন,’যখন তাঁকে নেওয়া হয়েছিল ,তখনই আমি বলেছিলাম –তাঁকে শুধরাবার একটি সুযোগ দেওয়া হচ্ছে’।
আরাবুল ইসলামের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলের জল্পনা চলছিল। বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল ছেড়ে আইএসএফে যোগ দিলেও ভাঙড় ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পদে বহাল ছিলেন তিনি। ফলে তার দলে বদলের পরেও। স্থানীয় রাজনীতিতে ক্ষমতার সমীকরণ পুরোপুরি বদলায়নি।
গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে আরাবুল ইসলামের নেতৃত্বে ভাঙড় ২ পঞ্চায়েত সমিতির জয় পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। ওই পঞ্চায়েত সমিতিতে আইএসএফ পাঁচটি আসনে জয়লাভ করে। বাকি আসনগুলি ছিল তৃণমূলের দখলে। পরবর্তীকালে তৃণমূলের একাধিক সদস্য দল ছেড়ে আইএস এফ এর ৫ সদস্যের সঙ্গে হাত মেলান। এরপরই পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আলাবুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনস্থা আনার উদ্যোগ শুরু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও আই এস এফের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউত্তর আরও বাড়ে। অনাস্থা প্রস্তাব ঘিরে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। গত ১৩ই আগস্ট ভাঙড় ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আরাবুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনস্থা প্রস্তাবে স্থগিতাদেশ দেয় কোলকাতা হাইকোর্ট। আদালতে এই নির্দেশের ফলে আপাতত অনাস্থা প্রক্রিয়া থমকে যায়। এরপরই এবার সরাসরি সামাজিক মাধ্যমে দলকে নিশানা করে পদত্যাগের ঘোষণা, সেই জল্পনা কার্যত সীলমোহর দিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।পাশাপাশি তারা মনে করছেন,শওকত মোল্লার প্রভাবে তৃণমূলে ক্রমশ কোনঠাসা হয়ে পড়ার পরই আইএসএফে যোগ দিয়ে ছিলেন আরাবুল ইসলাম ।এবার সেই দলও ছাড়লেন তিনি।ফলে তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক গন্তব্য কী হতে পারে সেটাই এখন দেখার।






